বনলতা সেন — চলচ্চিত্র পর্যালোচনা চলচ্চিত্র পর্যালোচনা বাংলা সিনেমা পর্যালোচনা কবিতা ও শিল্প চলচ্চিত্র পর্যালোচনা · ২০২৬ বনলতা সেন একটি অসম্পূর্ণ মাস্টারপিস — উঁচুতে উঠতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ব্যর্থতা ৩.৫ / ৫ · পরিচালক: মাসুদ হাসান উজ্জ্বল · ২০২৬ সিনেমা হলের আলো নিভলে একটা চুক্তি হয়। পরিচালক বলেন; আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে কোথাও নিয়ে যাব। দর্শক রাজি হয়ে চোখ মেলে বসে থাকেন। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা সেন সেই চুক্তি রাখে; কিন্তু পুরোপুরি না। যতটুকু রাখে, সেটা অসাধারণ। যতটুকু রাখে না, সেটা বেদনাদায়ক; কারণ এই সিনেমার সম্ভাবনা ছিল অপরিসীম। ১ গল্পের কাঠামো; দুটো সমান্তরাল জীবন জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা কবিতার আক্ষরিক রূপান্তর নয়। পরিচালক আরো সাহসী পথ বেছেছেন। সিনেমায় দুটো সমান্তরাল গল্প একসাথে চলে। একদিকে আছেন স্বয়ং কবি জীব...
সামুয়েল বেকেটের 'এন্ডগেম' | Endgame By Samuel Beckett বাংলা আলোচনা
on
Get link
Facebook
X
Pinterest
Email
Other Apps
সামুয়েল বেকেটের 'এন্ডগেম' | Endgame By Samuel Beckett বাংলা আলোচনা
সামুয়েল বেকেটের নাটক "এন্ডগেম" (Endgame) বিংশ শতাব্দীর অ্যাবসার্ড নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এই নাটকটি নিরর্থকতার থিয়েটারের (Theatre of the Absurd) মূলনীতিগুলোকে তুলে ধরে এবং অস্তিত্ববাদী দর্শনের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
"এন্ডগেম" হল স্যামুয়েল বেকেট রচিত একটি বিখ্যাত নাটক, যা ১৯৫৭ সালে ফরাসি ভাষায় "ফিন ডে জো" ("Fin de partie") শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে নাটকটি ইংরেজিতে "এন্ডগেম" শিরোনামে অনুবাদ করা হয়।
এই নাটকটি বেকেটের "ট্রিলজি" ("Trilogy") নামক তিনটি নাটকের তৃতীয় এবং শেষ নাটক। "ট্রিলজি"-র অন্য দুটি নাটক হল "ওয়েটিং ফর গডো" ("Waiting for Godot") (১৯৫২) এবং "ম্যালন ডাইস" ("Malone Dies")।
"এন্ডগেম" বিশ্ব সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি অ্যাবসার্ড থিয়েটারের একটি ক্লাসিক উদাহরণ এবং এটি অস্তিত্ববাদের প্রধান থিমগুলো অন্বেষণ করে।
ইতিহাস
"এন্ডগেম" ১৯৫৭ সালে বাড কোম্পানির পরিচালনায় প্যারিসে প্রথম মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকটি সমালোচক এবং দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। কিছু মানুষ এটিকে একটি অসহ্য এবং অর্থহীন নাটক হিসেবে মনে করেছিলেন, আবার অন্যরা এটিকে একটি অভিনব এবং চিন্তা-উদ্দীপক কাজ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন।
"এন্ডগেম" বিশ্বব্যাপী অনেকবার মঞ্চস্থ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন রূপান্তরেরও ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিশ্ব নাট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এটি স্থান করে নিয়েছে। এটি অস্তিত্ববাদী থিয়েটারের একটি প্রভাবশালী উদাহরণ এবং এটি আজও প্রাসঙ্গিক ও চিন্তা-উদ্দীপক থিমগুলো অন্বেষণ করে।
পটভূমি ও চরিত্র
নাটকটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত পৃথিবীর একটি নিরালা, একক কামরায় আবর্তিত হয়। এই নিরাশ্রয় জায়গায় চারটি চরিত্র বাস করে:
হাম (Hamm): একজন অন্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধ, যে তার সেবাকর্মীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।
ক্লোভ (Clov): হামের ক্লান্ত সেবক, যে সবসময় তাকে ছেড়ে চলে যেতে আকাঙ্ক্ষা করে কিন্তু পারে না।
নাগ (Nagg) ও নেল (Nell): হামের নির্ভরশীল বাবা-মা, যারা দুটি উপচে পড়া ডাস্টবিনে (আবর্জনার পাত্রে) বসবাস করে।
বিষয়বস্তু
নিরর্থকতা (The Absurd): নাটকটি অর্থহীন কাজ, খণ্ডিত সংলাপ এবং কালো কৌতুকের (Black Comedy) মাধ্যমে নিরর্থকতার থিয়েটারের ধারণাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি বিধ্বস্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের অস্তিত্বের চরম নিরর্থকতাকে তুলে ধরে।
নাটকটি মূলত হাম এবং ক্লোভের মধ্যকার কথোপকথন দ্বারা চালিত হয়, যারা তাদের অস্তিত্বের অর্থহীনতা এবং অসহায়ত্ব নিয়ে ভাবনা প্রকাশ করে। তারা জীবনের চূড়ান্ত সমাপ্তির জন্য অপেক্ষা করে—যা অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু কিছুতেই যেন আসে না।
Comments
Post a Comment